Posts

পুরাণে একটা দৃশ্য আছে, যেটা আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি, কিন্তু সত্যি বলতে কী—ঠিকভাবে বোঝার চেষ্টা খুব কমই করি।

Image
হিরণ্যকশিপু বধের পর নরসিংহ শান্ত হলেন না। বরং আরও ভয়ংকর হয়ে উঠলেন। এটাই সেই জায়গা, যেখানে গল্পটা শুধু “দেবতা বনাম অসুর” থাকে না—এটা সরাসরি মানুষের মনস্তত্ত্বে ঢুকে পড়ে। নরসিংহ অবতার ছিল সীমার বাইরে। না পুরো মানুষ, না পুরো পশু। না দিন, না রাত। না ঘর, না বাইরে। না অস্ত্র, না অনস্ত্র। মানে—সব নিয়ম ভাঙা একটা রূপ। হিরণ্যকশিপু মারা গেল, কিন্তু নরসিংহের রাগ থামল না। কারণ রাগটা আর বাইরের শত্রুর জন্য ছিল না। ওটা তখন নিজের ভেতরের আগুন। এখানেই একটা খুব অস্বস্তিকর সত্য লুকিয়ে আছে। আমরা অনেক সময় ভাবি— “যাকে মারতে চেয়েছিলাম, তাকে হারালেই শান্তি আসবে।” “যার বিরুদ্ধে লড়াই, সে শেষ হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু বাস্তবে কী হয়? ট্রমা শেষ হয় না। শরীর থামে না। নার্ভাস সিস্টেম বুঝতে পারে না যে যুদ্ধ শেষ। নরসিংহ তখন সেই অবস্থা। হিরণ্যকশিপু শুধু একটা ব্যক্তি ছিল না। সে ছিল অত্যাচার, ভয়, অবদমন, অহংকার—সবকিছুর প্রতীক। তাকে মারার জন্য যে শক্তি ডাকা হয়েছিল, সেই শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে, কাজ শেষ হওয়ার পর আর নিজেকে গুটোতে পারছিল না। আজকের ভাষায় বললে— নরসিংহ ছিল একেবারে fight-response stuck mode-এ। এজন্যই...

জানেন কি, বেগুনের জন্ম কৈলাসে?

Image
 ব্রহ্মলোকে বেগুন নেই, বিষ্ণুলোকে বেগুন নেই, ইন্দ্র, বরুণ, সূর্যদেব দুটো বেগুনের জন্যে কত না হাপিত্যেশ করেন, আর দেবাদিদেব মহাদেব কিনা ফি রোজ বেগুন ভাজা দিয়ে ভাত খান! আর তাই সব দেবতা রেগে গিয়েই ওটার নাম দিয়েছে, ‘বে-গুণ'। আঙুর ফল টক, আর কী!  কিন্তু যা ব্রহ্মলোকে নেই, বিষ্ণুলোকে নেই, তা আমাদের এই মর্তলোকে কীভাবে এল, জানেন কি? সে এক কাহিনি! শিবের অনুচর দেদার। নন্দী, ভৃঙ্গী, ঘন্টাকর্ণ, বীরভদ্র, আরও কত ভূত পিশাচের দল। কেউ বাবার জন্যে কেউ সিদ্ধি কোটে, কেউ ছিলিম সাজায়, কেউ অনুপান সাজায়। তেমনই একজনের নাম বিঘোর। সে বাগানের সুপারভাইজার। কৈলাসে শিবালয়ের পিছনের বাগানে বেগুনের বিশাল চাষ ওই তো সামলায়। প্রতিদিন বেগুন কাঁটার খোঁচা খেয়ে বেছে বেছে ওই তো বেগুন নিয়ে আসে বাবার জন্যে। বাবার আর তো কোন চাহিদা নেই। দিনভর সিদ্ধি-ভাঙ; আর স্রেফ ভাতের পাশে কটা বেগুন ভাজা ছাড়া।    তা একদিন হয়েছে কী, বিঘোর ব্যাটা ধুতুরার বীজ খেয়ে কৈলাসের ফুটপাতে ফুলহার নামে এক যক্ষিণীকে ‘আই লাভ ইউ’ বলে হাতটি ধরে ফেলেছে। বিষম রেগে মহাদেব মদনের মতো ভস্মই করে দিচ্ছিলেন, পরে দয়া করে কৈলাস থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার...

কে এই কমিউনিস্ট নেতা বিশ্বাসঘাতক???

Image
১৯৪২ সালের ডিসেম্বর মাসে নেতাজির সহচর কমিউনিস্ট নেতা ভগতরামকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দীতে সে নেতাজীকে বিশ্বাসঘাতক বলে। এবং সে যে নেতাজীর সঙ্গে ঠান্ডা মাথায় বেইমানি করেছে, সেটাও স্বীকার করে। তার ফলে নেতাজীকে আশ্রয় দেওয়া উত্তম চন্দ গ্রেপ্তার হন। মানব মনস্তত্ত্ব বিশাল জটিল জিনিস। দুর্বল পুরুষরা জোর গলায় পৌরুষের অহংকার করে বেড়ায়। আর বিশ্বাসঘাতকরা আজকাল সাভারকর, শ্যামাপ্রসাদের মত অন্য ঘরানার নেতাদের খুঁত ধরে বেড়ায়।  ———— তথ্যসূত্র সহ পুরাতন পোস্ট:  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টাইমলাইন আরেকবার ঝালিয়ে নেওয়া যাক। অনেকেই জানেন। তাও আরেকবার... ১৯৪১ সাল। জানুয়ারি ১৬-১৭। এলগিন রোডের বাড়ি থেকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বেরিয়ে এলেন। কলকাতা থেকে বেরালেন ইন্সুরেন্স এজেন্ট মহম্মদ জিয়াউদ্দিন পরিচয়ে। ব্রিটিশ আমলে মুসলিম পরিচয় নেওয়াটা তুলনামূলকভাবে সেফ ছিল বলেই কি এমন ছদ্মবেশ? সেই নিয়েও বিতর্ক আছে। সে থাক।  ১৯৪১ সাল। জানুয়ারি। স্থলপথে পেশোয়ার পৌঁছলেন সুভাষচন্দ্র বসু। উদ্দেশ্য আফগান প্রদেশ পেরিয়ে যাওয়া এবং সোভি...

জবাব তোমায় দিতেই হবে—

Image
⁉️কারা শহীদ ভগৎ সিং এর ফাঁসির সমর্থন করেছে? ⁉️কারা সর্দার উধম সিং এর ফাঁসির সমর্থন করে? ⁉️কারা দেশবন্ধুকে দল ছাড়তে বাধ্য করে? ⁉️কারা নেতাজিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে? ⁉️ কারা নেতাজি ফিরলে তলোয়ার দিয়ে তাঁকে হত্যা করবে বলেছিল?  ⁉️কারা নীলগঞ্জের 3000 INA সেনার হত্যার পিছনে ব্রিটিশদের মদত দিয়েছিল? ⁉️কারা পঞ্চম জর্জের স্ট্যাচু ইন্ডিয়া গেটে রেখে পুজো করতো? ⁉️কারা ভারতমাতার বদলে লেডি মাউন্টব্যাটেন পূজা করতো? ⁉️কারা রমেশ মজুমদার, যদুনাথ সরকারের ইতিহাস মুছে দিয়েছে? ⁉️কারা যোজনা কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নেতাজির নাম মুছে দিয়েছে? ⁉️কার স্বার্থে মুখার্জী কমিশনের রিপোর্ট আস্তাকুড়ে ফেলে দেয়া হয়? ⁉️কারা 42 এর দুর্ভিক্ষে নেতাজির পাঠানো খাবার ফিরিয়ে ব্রিটিশদের সাহায্য করেছিল গণহত্যায়? ⁉️1947 এ পাঞ্জাবী রিফিউজিদের শীতের রাতে মসজিদ থেকে বের করে মৃত্যু মুখে ঠেলে দেয় কারা? ⁉️ব্রিটিশরা কোন নেতাদের গ্রেপ্তার করে জেলের বদলে রাজপ্রাসাদে গৃহবন্দী রাখতেন? ⁉️কারা আজাদ হিন্দ সরকারকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে দিয়েছিল? ⁉️কারা নৌবিদ্রোহ ইতিহাস থেকে মুছে দেয়? ⁉️তাহলে ব্রিটিশের দালাল কে? ...

গান্ধী কেন মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থক ছিলেন?

Image
গান্ধী কেন মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থক ছিলেন? (অধ্যাপক কে. এস. নারায়ণাচাৰ্য তাঁর বইতে কিছু সংকেত দিয়েছেন...) এটি সর্বজনবিদিত যে নেহেরু এবং ইন্দিরা মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু খুব কম মানুষই গান্ধীজির জাতিগত শিকড় সম্পর্কে জানেন। আসুন দেখা যাক অধ্যাপক কী কী কারণ তুলে ধরেছেন: ১. মোহনদাস গান্ধী ছিলেন করমচাঁদ গান্ধীর চতুর্থ স্ত্রী পুতলিবাঈয়ের পুত্র। পুতলিবাঈ মূলত 'প্রণামী' সম্প্রদায়ের ছিলেন। দাবি করা হয় যে, এই প্রণামী সম্প্রদায় হিন্দু বেশে একটি ইসলামিক আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত সংগঠন। ২. মিস্টার ঘোষের বই "দ্য কোরান অ্যান্ড দ্য কাফির"-এ গান্ধীর বংশপরিচয় নিয়ে বিতর্কিত উল্লেখ রয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে যে, করমচাঁদ এক মুসলিম জমিদারের অধীনে কাজ করতেন এবং অর্থ চুরির দায়ে আত্মগোপন করেন। সেই সময় ওই জমিদার পুতলিবাঈকে নিজ আশ্রয়ে রাখেন। মোহনদাসের জন্মের সময় করমচাঁদ তিন বছর নিখোঁজ ছিলেন। ৩. গান্ধীজির জন্ম ও বেড়ে ওঠা গুজরাটি মুসলিমদের পরিবেশেই হয়েছিল। ৪. লন্ডনে আইন পড়ার (লন্ডন ল কলেজ) সমস্ত খরচ তাঁর তথাকথিত মুসলিম পৃষ্ঠপোষকই বহন করেছিলেন। ৫. দক্ষিণ আফ্রিকায় গা...

দীনদয়াল উপাধ্যায় ও অখণ্ড মানবতাবাদ''

Image
আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক ও দার্শনিক চিন্তাজগতে দীনদয়াল উপাধ্যায় (১৯১৬–১৯৬৮) একটি বিশেষ ও স্বতন্ত্র নাম । তিনি ছিলেন একাধারে একজন আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ, গভীর দার্শনিক চিন্তাবিদ এবং দক্ষ সংগঠক, যাঁর চিন্তাধারা পরবর্তীকালে ভারতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় । ভারতীয় জন সংঘের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে তাঁর ভূমিকা যেমন উল্লেখযোগ্য, তেমনই তাঁর প্রবর্তিত ‘অখণ্ড মানবতাবাদ’ ভারতীয় রাজনৈতিক দর্শনে এক মৌলিক সংযোজন হিসেবে বিবেচিত ।  পাশ্চাত্য পুঁজিবাদ ও মার্ক্সবাদী চিন্তার একমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে তিনি এমন এক সমন্বিত জীবনদর্শনের কথা বলেন, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র, তিনটিরই সুষম ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত হয় । দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দার্শনিক চিন্তার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘অখণ্ড মানবতাবাদ’ । এই মতবাদে মানুষকে কেবল অর্থনৈতিক সত্তা বা শ্রেণিসংগ্রামের যন্ত্র হিসেবে দেখা হয় না, মানুষকে শরীর, মন, বুদ্ধি ও আত্মার সমন্বয়ে গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয় । তাঁর মতে, সমাজব্যবস্থা তখনই সুস্থ ও উন্নত হতে পারে, যখন বস্তুগত উন্নতির সঙ্গ...

মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব কর্তৃক শিখ গুরু তেগ বাহাদুর ও তার তিন শিষ্যকে হত্যার নৃশংস ইতিহাস

Image
মুসলমান শাসকরা যেমন হিন্দুদের উপর অত্যাচার করেছে, তেমনি অত্যাচার করেছে- শিখ, জৈন ও বৌদ্ধদের উপরও। আজ আপনাদের শোনাবো মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব কর্তৃক চারজন জন শিখ গুরুর উপর নৃশংস অত্যাচারের ফলে তাদের মৃত্যু বরণের কাহিনী। এই গুরুদের প্রতি আমার অশেষ শ্রদ্ধার কারণ, হিন্দুদের উপর মুসলমানদের অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে গিয়েই এরা রাজ রোষের শিকার হন এবং মৃত্যু বরণ করেন। ঔরঙ্গজেব (বাংলাদেশে বলে আওরঙ্গজেব) তার শাসন কালে কাশ্মিরের হিন্দুদেরকে মুসলমান বানানোর জন্য জঘন্য অত্যাচার শুরু করে। সেই সময় শিখদের সপ্তম গুরু, গুরু তেগ বাহাদুর, এর প্রতিবাদ করেন। এই অপরাধে, ঔরঙ্গেজেব, তেগ বাহাদুর এবং তার তিন জন প্রিয় ও প্রধান শিষ্যকে বন্দী ক'রে, পশুর মতো খাঁচায় ভ'রে, তাদেরকে দিল্লি নিয়ে আসে।  প্রথমে তিন শিষ্যকে ইসলাম গ্রহন করতে বলা হয়। কিন্তু তারা তিনজনই মুসলমান হতে অস্বীকার করে। বাদশাহর হুকুম অমান্য করার অপরাধে তাদের জন্য শাস্তি ঘোষণা করা হয়। শাস্তিটা হলো, তিন জনেরই মৃত্যুদণ্ড; কিন্তু মৃত্যুগুলো হবে আলাদা আলাদা ভাবে এবং যতটা সম্ভব ধীরে ধীরে ও যন্ত্রণা দেওয়ার মাধ্যমে। যাতে একজনের শাস্তি ও যন্ত্রণা ...