Posts

Featured Post

গান্ধীজি অহিংস ছিলেন না। অহিংস ছিল তাঁর মুখোশ।

Image
নেতাজি সুভাষকে তিনি কংগ্রেস থেকে সরিয়েছিলেন হিংসার অনলে জ্বলে। প্রমাণ ১৯৩৯ সালে ত্রিপুরি কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন। সুভাষ নির্বাচনে দাঁড়ালেন গান্ধীজির অমতে। কী এত বড় স্পর্ধা সুভাষের! গান্ধীজি অবাক। তাই তিনি তাঁর মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে সুভাষের বিরুদ্ধে দাঁড় করালেন। জয়ী হলেন সুভাষ। ফল হল মারাত্মক।               গান্ধী ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু নির্বাচনে নেতাজীর জয় লাভের পর গান্ধীজির উক্তি: ‘The defeat of Pattabhi Sitaramyya is my defeat’ অর্থাৎ পট্টভি সীতারামাইয়ার পরাজয় মানে আমার পরাজয়।’ এ কী সাংঘাতিক কথা! জনগণের ভোটে নির্বাচিত সভাপতি সুভাষচন্দ্র বসুর জয়ে হঠাৎ মহাত্মার মত মানুষের এই ধরনের উক্তির কারণ কী? কারণ হিসেবে বলা হল গান্ধীজির নীতির কথা। গান্ধীজি অহিংসার পুজারী, অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী। সুভাষ ঠিক এর বিপরীত। তাই সুভাষের জয় মানেই গান্ধীজির অহিংস নীতির পরাজয়। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আদৌ তা নয়।  অক্ষমতার জন্য অহিংসার বুলি। আসলে সুচতুর গান্ধীজিকে বিচলিত করেছিল সুভাষের জয়। তিনি চরম হিংসা করতেন নেতাজীর জনপ্রিয়তাকে...

ইতিহাসের দর্পণে ১৯৬৬-র গো-রক্ষা আন্দোলন: করপাত্রী মহারাজ ও ইন্দিরা গান্ধীর সেই ‘অভিশপ্ত’ অধ্যায়

Image
ভারতের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসে ১৯৬৬ সালের ৭ই নভেম্বর একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিতর্কিত দিন হিসেবে চিহ্নিত। এই দিনটি ছিল ‘গোপষ্টমী’। দিল্লির সংসদ ভবনের সামনে কয়েক লক্ষ সাধু-সন্ত ও গো-ভক্তদের ওপর পুলিশের গুলিচালনা এবং এর সাথে জড়িয়ে থাকা স্বামী করপাত্রী মহারাজের ‘অভিশাপ’ আজও জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক আলোচনায় প্রাসঙ্গিক। প্রতিশ্রুতি ও বিশ্বাসের প্রেক্ষাপট জনশ্রুতি এবং আধ্যাত্মিক গ্রন্থসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী, লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আকস্মিক প্রয়াণের পর যখন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে জটিলতা চলছিল, তখন ইন্দিরা গান্ধী আশীর্বাদের জন্য প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক স্বামী করপাত্রী মহারাজের শরণাপন্ন হন। করপাত্রী মহারাজ ছিলেন তৎকালীন হিন্দু সমাজের এক প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আশীর্বাদ দিলেও একটি শর্ত দিয়েছিলেন— প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাকে দেশজুড়ে ‘গো-বংশ’ হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। বলা হয়, ক্ষমতায় আসার মোহে ইন্দিরা গান্ধী সেই সময় এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ৭ নভেম্বর ১৯৬৬: সংসদ ভবনের সামনে সেই রক্তক্ষয়ী দিন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বেশ কিছু ...

#জওহরলাল_নেহেরুর কৌশলগত উদাসীনতার ফলে 97% বৌদ্ধ ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ চট্টগ্রাম কিভাবে পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে চলে যায়, তাই নিয়েই কিছু তথ্য দেবো।

Image
1947 সালে দেশভাগের সময় চট্টগ্রাম (মূলত চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল) পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পেছনে প্রধানত সিরিল র‍্যাডক্লিফ এবং জওহরলাল নেহেরুর কৌশলগত উদাসীনতাকে দায়ি করা হয়। সিরিল র‍্যাডক্লিফের নিজস্ব নথিতে উল্লেখ ছিলো যে, কলকাতা বন্দর ভারত পেয়ে যাওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর অপরিহার্য। তাই চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলকে ওই বন্দর শহরের 'হিন্টারল্যান্ড' বা সংযোগকারী এলাকা হিসেবে পাকিস্তানের অধীনে দিয়ে দেওয়া উচিত।   পার্বত্য চট্টগ্রামের তৎকালীন জনসমিতি নেতা স্নেহা কুমার চাকমা এবং কামিনী মোহন দেওয়ান তাঁদের বিভিন্ন স্মৃতিকথা ও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন যে, তারা দিল্লিতে প্রায় 50 দিন অপেক্ষা করেও নেহেরুর কাছ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিশ্রুতি পাননি। নেহেরু তখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে এবং র‍্যাডক্লিফের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেখিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এর পর চাকমা প্রতিনিধিরা ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সাথে দেখা করলে তিনি সহানুভূতি দেখালেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেহেরুর হাতে থাকায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। 19...

জাভেদ খানানি: এক অদৃশ্য যুদ্ধ এবং ভারতের নোটবন্দির নেপথ্য কাহিনী

Image
জাভেদ খানানি এবং ২০১৬ সালের নোটবন্দি বা ডিমোনিটাইজেশন নিয়ে একটি তথ্যবহুল ও রোমাঞ্চকর নিবন্ধ নিচে দেওয়া হলো :- জাভেদ খানানি: এক অদৃশ্য যুদ্ধ এবং ভারতের নোটবন্দির নেপথ্য কাহিনী আপনি কি মনে করেন সিনেমার পর্দায় দেখা ভয়ংকর সব ভিলেনরাই সবচেয়ে শক্তিশালী? যদি তাই ভেবে থাকেন, তবে আপনি হয়তো জাভেদ খানানি নামক এই রক্তমাংসের মানুষটি সম্পর্কে জানেন না। অপরাধ জগতের বড় বড় ডন বা ষড়যন্ত্রকারীরা একদিকে, আর এই জাভেদ খানানি ছিল অন্যদিকে। সে ছিল এমন এক ব্যক্তি, যে চাইলে একাই পুরো ভারতের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারত। এশিয়ার সবচেয়ে বড় হাওয়ালা নেটওয়ার্ক ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত জাভেদ খানানি এশিয়ার সবচেয়ে বড় হাওয়ালা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত। তার এই জাল এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, কোনো শারীরিক নগদ অর্থ লেনদেন ছাড়াই সে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিতে পারত। কিন্তু তার আসল চাল ছিল অন্য জায়গায়। পাকিস্তানের মাটিতে বসে সে উন্নত মানের জাল ভারতীয় মুদ্রা (Fake Indian Currency) ছাপাত এবং তার নিজস্ব হাওয়ালা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা ভারতের বাজারে ছড়িয়ে দিত। ভারতের অর্থনীতিতে ক্যান...

মুজিবর রহমান ছিল অশিক্ষিত বা কুশিক্ষিত বাঙালি মুসলমান যার মধ্যে জাতীয়তাবোধের লেশমাত্রও ছিল না৷

Image
মুজিবর রহমান ছিল অশিক্ষিত বা কুশিক্ষিত  বাঙালি মুসলমান যার মধ্যে জাতীয়তাবোধের লেশমাত্রও ছিল না৷  সে  ছিল সীমাহীন লোভী, হিন্দু বিদ্বেষী বেইমান এবং ১৯৪৬ সালের " দাঙ্গায়" বাংলা প্রদেশের " প্রধানমন্ত্রী" এইচ এম সোহরাওয়ার্দী এর শাগরেদ৷ একমাত্র  এই লোকটার প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছে এই দেশদ্রোহী, ভারতের মানুষের শত্রু মুজিবর৷ একই লোক দুইবার দেশ ভাঙায় সক্রিয় থেকেছে- গঠন মূলক কাজ কোনদিন কিছুই করে নি৷  কংগ্রেস দলের সহায়তায় বাংলায় মুসলিম লিগ দল ক্ষমতায় আসে  ১৯৪৩ সালে৷  কারণ ফজলুল হকের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গড়তে চায় নি গান্ধীর অনুগতরা৷ এর পর গণহত্যা এবং দেশভাগ যাতে অমুসলিমদের মরতে দিয়েই হয় পাকিস্তান৷ জিন্নাহ মানুষটাকে জাতীয়তাবাদী থেকে সঙ্কীর্ণ সাম্প্রদায়িক করেছিল সেই কংগ্রেস৷ এই দলের মূল চক্রী মোহন গান্ধীকে সময়ে হত্যা করা ছিল জরুরি৷ আধুনিক ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সের কি পার্সন বলা যায় এই নরাধম গান্ধীকে৷ সবচেয়ে অশিক্ষিত,   অযোগ্য অপদার্থ,ক্লীব,  সমাজবিরোধী লোকগুলাই তখন রাজনীতিতে৷ যে বিদ্যায় এক কোম্পানি বা সংস্থা চালানোর তত্ত্ব আলোচনা করা হয় সেটা দেশ...

আমি কেন গান্ধীকে হত্যা করেছি!

Image
সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি পাওয়ার পর প্রকাশিত নাথুরাম গডসের শেষ ভাষণ, যা ৬০ বছর ধরে ভারতে নিষিদ্ধ ছিল - #আমি কেন_গান্ধীকে_হত্যা করেছি! ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারী নাথুরাম গডসে করমচাঁদ গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করেন। তবে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাননি বরং আত্মসমর্পণ করেন। আদালতে নাথুরাম গডসের বক্তব্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ: আমি গান্ধীকে হত্যা করিনি। আমি গান্ধীকে বধ করেছি। তিনি আমার শত্রু ছিলেন না, কিন্তু তার সিদ্ধান্ত জাতির জন্য মারাত্মক প্রমাণিত হচ্ছিল। যখন একজন ব্যক্তির কাছে অন্য কোন বিকল্প থাকে না, তখন তাকে সঠিক কাজ করার জন্য ভুল পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়। মুসলিম লীগের প্রতি গান্ধীর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং পাকিস্তান তৈরির ভুল নীতিই আমাকে বাধ্য করেছিল। পাকিস্তানের ৫৫ কোটি টাকা দেওয়ার অযৌক্তিক দাবির প্রতিবাদে গান্ধী অনশন ধর্মঘটে গিয়েছিলেন। দেশভাগের সময় পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা হিন্দুদের অগ্নিপরীক্ষা এবং দুর্দশা আমাকে নাড়া দিয়েছিল। গান্ধীর কারণে অবিভক্ত হিন্দু জাতি মুসলিম লীগের কাছে আত্মসমর্পণ করছিল। একজন মাকে তার ছেলেদের সামনে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য অসহনীয়...

প্রসঙ্গ মরিচঝাঁপি।

Image
আমরা ভুলবও না, ভুলতে দেবও না। মরিচঝাঁপি সুন্দরবনের একটি দ্বীপ—মূল ভূখণ্ড থেকে বহু দূরে, চারদিক নোনা জলে ঘেরা। এই দ্বীপের ইতিহাস শুধু একটি ভূখোলিক পরিচয়ের নয়, এটি বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের বেদনা, বঞ্চনা ও রক্তের ইতিহাস। দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলে বহু বাঙালি হিন্দু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমান বাংলাদেশ থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিতে আসে। প্রথম সারির উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষরা কোনওভাবে কলকাতা ও অন্যান্য এলাকায় ঠাঁই পেলেও, দ্বিতীয় সারির বিপুল সংখ্যক নিম্নবিত্ত নমঃশূদ্র হিন্দু উদ্বাস্তুদের পশ্চিমবঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়নি। তাদের জোর করে পাঠানো হয় দণ্ডকারণ্যের পাথুরে, জঙ্গলাকীর্ণ, আতিথেয়তাশূন্য অঞ্চলে—মূলত ওড়িশ্যা ও মধ্যপ্রদেশে। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন মন্ত্রী রাম চ্যাটার্জী দণ্ডকারণ্যের উদ্বাস্তু শিবিরে গিয়ে তাদের পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাস ছিল মিথ্যে। ভাষাগত সমস্যা, খাদ্য ও পানীয়ের অভাব, ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠলে ১৯৭৮ সালে হাজার হাজার উদ্বাস্তু আবার বাংলার পথে রওনা দেন। ...