জাভেদ খানানি: এক অদৃশ্য যুদ্ধ এবং ভারতের নোটবন্দির নেপথ্য কাহিনী

জাভেদ খানানি এবং ২০১৬ সালের নোটবন্দি বা ডিমোনিটাইজেশন নিয়ে একটি তথ্যবহুল ও রোমাঞ্চকর নিবন্ধ নিচে দেওয়া হলো :-

জাভেদ খানানি: এক অদৃশ্য যুদ্ধ এবং ভারতের নোটবন্দির নেপথ্য কাহিনী

আপনি কি মনে করেন সিনেমার পর্দায় দেখা ভয়ংকর সব ভিলেনরাই সবচেয়ে শক্তিশালী? যদি তাই ভেবে থাকেন, তবে আপনি হয়তো জাভেদ খানানি নামক এই রক্তমাংসের মানুষটি সম্পর্কে জানেন না। অপরাধ জগতের বড় বড় ডন বা ষড়যন্ত্রকারীরা একদিকে, আর এই জাভেদ খানানি ছিল অন্যদিকে। সে ছিল এমন এক ব্যক্তি, যে চাইলে একাই পুরো ভারতের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারত।

এশিয়ার সবচেয়ে বড় হাওয়ালা নেটওয়ার্ক

২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত জাভেদ খানানি এশিয়ার সবচেয়ে বড় হাওয়ালা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত। তার এই জাল এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, কোনো শারীরিক নগদ অর্থ লেনদেন ছাড়াই সে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিতে পারত। কিন্তু তার আসল চাল ছিল অন্য জায়গায়।

পাকিস্তানের মাটিতে বসে সে উন্নত মানের জাল ভারতীয় মুদ্রা (Fake Indian Currency) ছাপাত এবং তার নিজস্ব হাওয়ালা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা ভারতের বাজারে ছড়িয়ে দিত।

ভারতের অর্থনীতিতে ক্যানসারের মতো বিস্তার

বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, জাভেদ খানানি প্রতি বছর ভারতে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার জাল নোট পাচার করত। এই জাল নোটের কারণে ভারতের হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি তো হতোই, সাথে এই টাকা সরাসরি ব্যবহার করা হতো ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গি হামলা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে। এটি ছিল ভারতের অর্থনীতির ওপর এক ধরণের নিঃশব্দ ক্যানসার।

২০১৬ সালের সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

২০১৪ সালে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই জাল নোটের নেটওয়ার্ক ভাঙার কাজ শুরু হয়। যখন এই চক্রের ভয়াবহতা সামনে আসে, তখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও অবাক হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে ৮ই নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন— ৫০০ এবং ১০০০ টাকার পুরনো নোট বাতিল (Demonetization)।

এক ঝটকায় গুঁড়িয়ে গেল সাম্রাজ্য

গোটা ভারত যখন নোট বদলানোর লাইনে ব্যস্ত, তখন পাকিস্তানের করাচিতে বসে এক ব্যক্তি সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খেয়েছিল—সে হলো জাভেদ খানানি। তার গোডাউনে পড়ে থাকা হাজার হাজার টন জাল ভারতীয় মুদ্রা রাতারাতি স্রেফ কাগজের টুকরোয় পরিণত হয়। লগ্নিকৃত কয়েক হাজার কোটি টাকা এক লহমায় ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

এই ধাক্কা সইতে না পেরে, নোটবন্দির ঠিক এক মাসের মাথায় (ডিসেম্বর ২০১৬), জাভেদ খানানি নিজের বাড়ির চারতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে (অনেকের মতে এটি ছিল এক রহস্যময় মৃত্যু)।

উপসংহার

যদি সেই সময় নোটবন্দির মতো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হতো, তবে জাভেদ খানানির এই বিষাক্ত জাল ভারতের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিত। মুদ্রাস্ফীতি আর জঙ্গি অর্থায়নে ভারত এক গভীর সংকটে পড়ত। আমাদের নিরাপত্তারক্ষী এবং সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ভারতকে এক বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি আপনার বন্ধু এবং পরিবারের সাথে শেয়ার করুন যাতে সবাই ভারতের অর্থনীতির এই অজানা যুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারে।

Ananda Sarkar 
#JavedKhanani #Demonetization #IndianEconomy #FakeCurrency #NationalSecurity #NoteBandi #FinancialAwareness #IndiaFightsBack #EconomicWar #Information #স্মিত_ঠক্কর #ভারত

Comments

Popular posts from this blog

আমি কেন গান্ধীকে হত্যা করেছি!

বড়দিনকে হিন্দুয়ানায় বেঁধেছিলেন স্বামীজি, তুলসী-পূজনেও সে বাঁধন অটুট।

প্রসঙ্গ মরিচঝাঁপি।