অজানা ভারতবর্ষ Discover India
আমি যা লিখছি তার সার্টিফাইড লিংক রয়েছে, আপনারা সেখানে বিস্তারিত পড়বেন কারণ এখানে খুব বেশি লেখা সম্ভব নয়।
১৯ শতকের শুরুতে খিলাফত আন্দোলনের সাথে সাথে ভারতের মুুसলিম সম্প্রদায় ধর্মান্ধ হয়ে ওঠে, এবং হিন্দু ও তাদের মধ্যে তিক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
তারপর ১৯২০ সালে, ভারতের প্রায় সব মসজিদে দুটো বই বিলি হতে দেখা গেল। একটা বইয়ের নাম "কৃষ্ণ তেরী গীতা জ্বালানি পড়েগি" আর দ্বিতীয় বইটির নাম হলো "উন্নীসবী সদী কা লম্পট মহর্ষি"। এই দুটো বইতে কোনও লেখক বা প্রকাশকের নাম পর্যন্ত ছিলনা। এই দুটি বইতেই ভগবান শ্রী কৃষ্ণ, হিন্দু ধর্ম ইত্যাদি নিয়ে অত্যন্ত অশ্লীল, অত্যন্ত জঘন্য কথা লেখা ছিল। ধীরে ধীরে এই দুটি বই ভারতের প্রতিটি মসজিদে বিতরণ করা শুরু হলো।
বিষয়টি যখন মহাত্মা গান্ধীর কাছে পৌঁছেছিল, তখন মহাত্মা গান্ধী এটিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয় বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে ভারতে প্রত্যেকেরই তার মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে, কিন্তু হিন্দুদের মধ্যে এই দুটি বই নিয়ে যথেষ্ট আক্রোশ ছিল।
তারপর 1923 সালে, লাহোরে অবস্থিত রাজপাল প্রকাশকের মালিক মহাশয় রাজপাল জী "রঙ্গিলা রসুল" নামে একটি বই প্রকাশ করেন। সেই বইটির মূল লেখক ছিলেন পণ্ডিত চম্পুপতি যিনি ইसলামের একজন সুপরিচিত পণ্ডিত ছিলেন এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল যে, সেখানে প্রত্যেকটা আয়াত নম্বর, হাদিস নম্বর ইত্যাদি প্রমাণ হিসাবে সেখানে দেওয়া ছিল। দেড়বছর ধরে, রঙ্গিলা রসুল বিক্রি হতে লাগল, ভারতে কোথাও কোনও হট্টগোল হয়নি, কিন্তু একদিন হঠাৎ ১৯২৪ সালের ২৮শে মে, মহাত্মা গান্ধী তার পত্রিকা "ইয়ং ইন্ডিয়া"-তে একটি দীর্ঘ নিবন্ধ লিখলেন, রঙ্গিলা রসুল বইটির তীব্র নিন্দা করলেন এবং শেষের ৩ লাইনে লিখলেন এই ধরনের বই যারা লিখেছেন তাদের শাস্তি মুसলিমদেরই দেওয়া উচিৎ।
গান্ধীজির এই লেখা পড়ার পর সারা ভারতে মুसলমানরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং রাজপালের প্রকাশকের মালিক রাজপাল জীকে ৩ বছরে ৫ বার আক্রমণ করা হয়েছিল, কিন্তু মহাত্মা গান্ধী একবারও এই হামলার নিন্দা করেননি। মজার ব্যাপার হল, কিছু মুसলিম পণ্ডিত লাহোর হাইকোর্টে রঙ্গিলা রসূলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। হাইকোর্ট চারজন ইसলামিক স্কলারকে আদালতে জিজ্ঞাসা করে যে, এই বইটির কোন লাইনটি ভুল, আপনারা বলুন। চারজন ইसলামিক স্কলারই এই ব্যাপারে সহমত হয় এই বইটিতে কিছু ভুল লেখা হয়নি। তারপর লাহোর হাইকোর্ট মহাশয় রাজপাল জির বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করে দেয় এবং তাকে বেকসুর খালাস দেয়।
এরপর ১৯২৪ সালের ৩ আগস্ট মহাত্মা গান্ধী ইয়ং ইন্ডিয়াতে আরেকটি উস্কানিমূলক প্রবন্ধ লেখেন এবং এই প্রবন্ধে তিনি এমন ভঙ্গিতে লিখেছিলেন যে, যখন কোনো ব্যক্তি আদালত থেকে ন্যায়বিচার পায় না, তখন তার উচিত নিজে প্রয়াস করে নিজের বিচার নিয়ে নেওয়া।
এর পরে রাজপাল জীকে আরও দুবার মারার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং অবশেষে ১৯২৯ সালের ৬ই এপ্রিল আক্রমণটি মারাত্মক প্রমাণিত হয় যেখানে 'মোহাम्मদ ইলম দীন' নামে এক যুবক রাজপাল জীকে হত্যা করে। এই হত্যার ৪ দিন পর গান্ধীজী লাহোরে ছিলেন, কিন্তু মহাত্মা গান্ধী রাজপাল জীর বাড়িতে শোক জানাতেও যাননি, না তার কোনো সম্পাদকীয়তে রাজপাল জীর হত্যার নিন্দা করেছিলেন।
এরপর ব্রিটিশরা রাজপাল জীর হত্যাকারী ইলম দীনের বিচার করে, মাত্র ৬ মাসের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কারণ এদেশের সমগ্র হিন্দু সমাজ উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল এবং ব্রিটিশরা মনে করেছিল যে এর দ্রুত ফাঁসি না দিলে ব্রিটিশ শাসনের ওপরেও চাপ সৃষ্টি হবে।
এর পরে, ৪জুন, ১৯২৯ তারিখে, মহাত্মা গান্ধী রাজপাল জীর হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড মাফ করার অনুরোধ জানিয়ে ব্রিটিশ ভাইসরয়কে একটি চিঠি লেখেন। এবং পরের দিন তার পত্রিকা ইয়ং ইন্ডিয়াতে একটি নিবন্ধ লেখা হয়েছিল, যেখানে গান্ধীজি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন যে এই হত্যাকারী নির্দোষ কারণ তিনি তার ধর্মের অবমাননা সহ্য করতে পারেনি এবং সে রাগে এই কাজ করে ফেলেছে।
অন্যদিকে, তৎকালীন সুপরিচিত ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লাহোর হাইকোর্টে মামলার প্রতিনিধিত্ব করার সময় থেকেই বলেছিলেন যে অপরাধী মাত্র ১৯ বছর বয়সী ছেলে কিন্তু সে একটি জঘন্য অপরাধ করে ফেলেছে। এটিকে একদম মাফ করা যাবে না, তবে বয়স বিবেচনা করে এর মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করা উচিত, নয়তো কালা পানির জেলে পাঠানো উচিত।
কিন্তু ১৯২৯ সালের ৩১এ অক্টোবর ব্রিটিশরা লাহোর জেলে রাজপাল জীর হত্যাকারী মোহাम्मদ ইলম দীনকে ফাঁসি দেয়। ২রা নভেম্বর, ১৯২৯, মহাত্মা গান্ধী ইয়ং ইন্ডিয়াতে ইলম দীনের ফাঁসিকে ইতিহাসের একটি কালো দিন হিসাবে লেখেন।
এবার আপনাদের বিবেচনার উপর ছেড়ে দিলাম, আপনারা নিজেই ভাবুন মহাত্মা গান্ধী হিন্দুদের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল ছিলেন!!
আজ নাথুরাম গডসেজী এবং নারায়ণ আপ্তেজীর তিরোধান দিবসে, ওনার গান্ধীজীর সংহার কে ন্যায্যতা প্রতিপাদন করছিনা। বরঞ্চ গান্ধীজির লেখা ইয়ং ইন্ডিয়াতে সেই কথাটাই উল্লেখ করছি- "হত্যাকারী নির্দোষ কারণ তিনি তার ধর্মের অবমাননা সহ্য করতে পারেনি এবং সেই রাগে এই কাজ করে ফেলেছে।"
Comments