Posts

Featured Post

আমি কেন গান্ধীকে হত্যা করেছি!

Image
সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি পাওয়ার পর প্রকাশিত নাথুরাম গডসের শেষ ভাষণ, যা ৬০ বছর ধরে ভারতে নিষিদ্ধ ছিল - #আমি কেন_গান্ধীকে_হত্যা করেছি! ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারী নাথুরাম গডসে করমচাঁদ গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করেন। তবে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাননি বরং আত্মসমর্পণ করেন। আদালতে নাথুরাম গডসের বক্তব্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ: আমি গান্ধীকে হত্যা করিনি। আমি গান্ধীকে বধ করেছি। তিনি আমার শত্রু ছিলেন না, কিন্তু তার সিদ্ধান্ত জাতির জন্য মারাত্মক প্রমাণিত হচ্ছিল। যখন একজন ব্যক্তির কাছে অন্য কোন বিকল্প থাকে না, তখন তাকে সঠিক কাজ করার জন্য ভুল পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়। মুসলিম লীগের প্রতি গান্ধীর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং পাকিস্তান তৈরির ভুল নীতিই আমাকে বাধ্য করেছিল। পাকিস্তানের ৫৫ কোটি টাকা দেওয়ার অযৌক্তিক দাবির প্রতিবাদে গান্ধী অনশন ধর্মঘটে গিয়েছিলেন। দেশভাগের সময় পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা হিন্দুদের অগ্নিপরীক্ষা এবং দুর্দশা আমাকে নাড়া দিয়েছিল। গান্ধীর কারণে অবিভক্ত হিন্দু জাতি মুসলিম লীগের কাছে আত্মসমর্পণ করছিল। একজন মাকে তার ছেলেদের সামনে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য অসহনীয়...

প্রসঙ্গ মরিচঝাঁপি।

Image
আমরা ভুলবও না, ভুলতে দেবও না। মরিচঝাঁপি সুন্দরবনের একটি দ্বীপ—মূল ভূখণ্ড থেকে বহু দূরে, চারদিক নোনা জলে ঘেরা। এই দ্বীপের ইতিহাস শুধু একটি ভূখোলিক পরিচয়ের নয়, এটি বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের বেদনা, বঞ্চনা ও রক্তের ইতিহাস। দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলে বহু বাঙালি হিন্দু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমান বাংলাদেশ থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিতে আসে। প্রথম সারির উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষরা কোনওভাবে কলকাতা ও অন্যান্য এলাকায় ঠাঁই পেলেও, দ্বিতীয় সারির বিপুল সংখ্যক নিম্নবিত্ত নমঃশূদ্র হিন্দু উদ্বাস্তুদের পশ্চিমবঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়নি। তাদের জোর করে পাঠানো হয় দণ্ডকারণ্যের পাথুরে, জঙ্গলাকীর্ণ, আতিথেয়তাশূন্য অঞ্চলে—মূলত ওড়িশ্যা ও মধ্যপ্রদেশে। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন মন্ত্রী রাম চ্যাটার্জী দণ্ডকারণ্যের উদ্বাস্তু শিবিরে গিয়ে তাদের পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাস ছিল মিথ্যে। ভাষাগত সমস্যা, খাদ্য ও পানীয়ের অভাব, ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠলে ১৯৭৮ সালে হাজার হাজার উদ্বাস্তু আবার বাংলার পথে রওনা দেন। ...

🇮🇳 স্বাধীনতার_নায়করা 🇮🇳

Image
তিনি বাংলার প্রথম বোমার কারিগর, ভারতের প্রথম পতাকা এঁকেছিলেন তিনিই, কিন্তু আজ সেই মানুষটাই ইতিহাসে উপেক্ষিত। বিস্মৃতি সরিয়ে ফিরে দেখা ❝অগ্নিযুগের অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য❞ হেমচন্দ্র কানুনগো..🌻 🇮🇳 #স্বাধীনতার_নায়করা 🇮🇳 ত্রিবর্ন রঞ্জিত পতাকা, গেরুয়া, সাদা, সবুজ। ভারতের জাতীয় পতাকা। কিন্তু এই ত্রিবর্ণ পতাকার প্রথম রূপ দিয়েছিলেন এক বাঙালি। কে মনে রেখেছেন হেমচন্দ্র কানুনগো কে? কেউ না। কেউ জানলই না মানুষটাকে। আসল নাম হেমচন্দ্র দাস কানুনগো। বিপ্লবী ভারতবর্ষের প্রথম জাতীয় পতাকার স্কেচ তৈরি করেন বিদেশের মাটি থেকে। সালটা ১৯০৭।জার্মানির স্টুয়ার্টগার্টে সেই পতাকা তুলে ধরেছিলেন ভিকাজী রুস্তম মাদাম কামা,একজন ভারতপ্রেমী স্বাধীনতা সংগ্রামী পার্সি মহিলা। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে বিশ্ব সোশালিস্ট কংগ্রেসের যে অধিবেশন হয় তাতে মাদাম ভিকাজি কামার সাথে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। হেমচন্দ্র চিত্রশিল্পী ছিলেন বলে, কথিত আছে মাদাম কামার অনুরোধে লাল,গেরুয়া ও সবুজ রঙের তেরঙ্গা পতাকা তৈরি করেন এবং ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের ২২ আগস্ট প্রবাসী ভারতীয়দের সম্মেলনে মাদাম কামা সেই পতাকা উত্তোলন করে ...

অজানা ভারতবর্ষ Discover India

Image
আমি যা লিখছি তার সার্টিফাইড লিংক রয়েছে, আপনারা সেখানে বিস্তারিত পড়বেন কারণ এখানে খুব বেশি লেখা সম্ভব নয়। ১৯ শতকের শুরুতে খিলাফত আন্দোলনের সাথে সাথে ভারতের মুুसলিম সম্প্রদায় ধর্মান্ধ হয়ে ওঠে, এবং হিন্দু ও তাদের মধ্যে তিক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। তারপর ১৯২০ সালে, ভারতের প্রায় সব মসজিদে দুটো বই বিলি হতে দেখা গেল। একটা বইয়ের নাম "কৃষ্ণ তেরী গীতা জ্বালানি পড়েগি" আর দ্বিতীয় বইটির নাম হলো "উন্নীসবী সদী কা লম্পট মহর্ষি"। এই দুটো বইতে কোনও লেখক বা প্রকাশকের নাম পর্যন্ত ছিলনা। এই দুটি বইতেই ভগবান শ্রী কৃষ্ণ, হিন্দু ধর্ম ইত্যাদি নিয়ে অত্যন্ত অশ্লীল, অত্যন্ত জঘন্য কথা লেখা ছিল। ধীরে ধীরে এই দুটি বই ভারতের প্রতিটি মসজিদে বিতরণ করা শুরু হলো। বিষয়টি যখন মহাত্মা গান্ধীর কাছে পৌঁছেছিল, তখন মহাত্মা গান্ধী এটিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয় বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে ভারতে প্রত্যেকেরই তার মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে, কিন্তু হিন্দুদের মধ্যে এই দুটি বই নিয়ে যথেষ্ট আক্রোশ ছিল। তারপর 1923 সালে, লাহোরে অবস্থিত রাজপাল প্রকাশকের মালিক মহাশয় র...

পুরাণে একটা দৃশ্য আছে, যেটা আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি, কিন্তু সত্যি বলতে কী—ঠিকভাবে বোঝার চেষ্টা খুব কমই করি।

Image
হিরণ্যকশিপু বধের পর নরসিংহ শান্ত হলেন না। বরং আরও ভয়ংকর হয়ে উঠলেন। এটাই সেই জায়গা, যেখানে গল্পটা শুধু “দেবতা বনাম অসুর” থাকে না—এটা সরাসরি মানুষের মনস্তত্ত্বে ঢুকে পড়ে। নরসিংহ অবতার ছিল সীমার বাইরে। না পুরো মানুষ, না পুরো পশু। না দিন, না রাত। না ঘর, না বাইরে। না অস্ত্র, না অনস্ত্র। মানে—সব নিয়ম ভাঙা একটা রূপ। হিরণ্যকশিপু মারা গেল, কিন্তু নরসিংহের রাগ থামল না। কারণ রাগটা আর বাইরের শত্রুর জন্য ছিল না। ওটা তখন নিজের ভেতরের আগুন। এখানেই একটা খুব অস্বস্তিকর সত্য লুকিয়ে আছে। আমরা অনেক সময় ভাবি— “যাকে মারতে চেয়েছিলাম, তাকে হারালেই শান্তি আসবে।” “যার বিরুদ্ধে লড়াই, সে শেষ হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু বাস্তবে কী হয়? ট্রমা শেষ হয় না। শরীর থামে না। নার্ভাস সিস্টেম বুঝতে পারে না যে যুদ্ধ শেষ। নরসিংহ তখন সেই অবস্থা। হিরণ্যকশিপু শুধু একটা ব্যক্তি ছিল না। সে ছিল অত্যাচার, ভয়, অবদমন, অহংকার—সবকিছুর প্রতীক। তাকে মারার জন্য যে শক্তি ডাকা হয়েছিল, সেই শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে, কাজ শেষ হওয়ার পর আর নিজেকে গুটোতে পারছিল না। আজকের ভাষায় বললে— নরসিংহ ছিল একেবারে fight-response stuck mode-এ। এজন্যই...

জানেন কি, বেগুনের জন্ম কৈলাসে?

Image
 ব্রহ্মলোকে বেগুন নেই, বিষ্ণুলোকে বেগুন নেই, ইন্দ্র, বরুণ, সূর্যদেব দুটো বেগুনের জন্যে কত না হাপিত্যেশ করেন, আর দেবাদিদেব মহাদেব কিনা ফি রোজ বেগুন ভাজা দিয়ে ভাত খান! আর তাই সব দেবতা রেগে গিয়েই ওটার নাম দিয়েছে, ‘বে-গুণ'। আঙুর ফল টক, আর কী!  কিন্তু যা ব্রহ্মলোকে নেই, বিষ্ণুলোকে নেই, তা আমাদের এই মর্তলোকে কীভাবে এল, জানেন কি? সে এক কাহিনি! শিবের অনুচর দেদার। নন্দী, ভৃঙ্গী, ঘন্টাকর্ণ, বীরভদ্র, আরও কত ভূত পিশাচের দল। কেউ বাবার জন্যে কেউ সিদ্ধি কোটে, কেউ ছিলিম সাজায়, কেউ অনুপান সাজায়। তেমনই একজনের নাম বিঘোর। সে বাগানের সুপারভাইজার। কৈলাসে শিবালয়ের পিছনের বাগানে বেগুনের বিশাল চাষ ওই তো সামলায়। প্রতিদিন বেগুন কাঁটার খোঁচা খেয়ে বেছে বেছে ওই তো বেগুন নিয়ে আসে বাবার জন্যে। বাবার আর তো কোন চাহিদা নেই। দিনভর সিদ্ধি-ভাঙ; আর স্রেফ ভাতের পাশে কটা বেগুন ভাজা ছাড়া।    তা একদিন হয়েছে কী, বিঘোর ব্যাটা ধুতুরার বীজ খেয়ে কৈলাসের ফুটপাতে ফুলহার নামে এক যক্ষিণীকে ‘আই লাভ ইউ’ বলে হাতটি ধরে ফেলেছে। বিষম রেগে মহাদেব মদনের মতো ভস্মই করে দিচ্ছিলেন, পরে দয়া করে কৈলাস থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার...

কে এই কমিউনিস্ট নেতা বিশ্বাসঘাতক???

Image
১৯৪২ সালের ডিসেম্বর মাসে নেতাজির সহচর কমিউনিস্ট নেতা ভগতরামকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দীতে সে নেতাজীকে বিশ্বাসঘাতক বলে। এবং সে যে নেতাজীর সঙ্গে ঠান্ডা মাথায় বেইমানি করেছে, সেটাও স্বীকার করে। তার ফলে নেতাজীকে আশ্রয় দেওয়া উত্তম চন্দ গ্রেপ্তার হন। মানব মনস্তত্ত্ব বিশাল জটিল জিনিস। দুর্বল পুরুষরা জোর গলায় পৌরুষের অহংকার করে বেড়ায়। আর বিশ্বাসঘাতকরা আজকাল সাভারকর, শ্যামাপ্রসাদের মত অন্য ঘরানার নেতাদের খুঁত ধরে বেড়ায়।  ———— তথ্যসূত্র সহ পুরাতন পোস্ট:  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টাইমলাইন আরেকবার ঝালিয়ে নেওয়া যাক। অনেকেই জানেন। তাও আরেকবার... ১৯৪১ সাল। জানুয়ারি ১৬-১৭। এলগিন রোডের বাড়ি থেকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বেরিয়ে এলেন। কলকাতা থেকে বেরালেন ইন্সুরেন্স এজেন্ট মহম্মদ জিয়াউদ্দিন পরিচয়ে। ব্রিটিশ আমলে মুসলিম পরিচয় নেওয়াটা তুলনামূলকভাবে সেফ ছিল বলেই কি এমন ছদ্মবেশ? সেই নিয়েও বিতর্ক আছে। সে থাক।  ১৯৪১ সাল। জানুয়ারি। স্থলপথে পেশোয়ার পৌঁছলেন সুভাষচন্দ্র বসু। উদ্দেশ্য আফগান প্রদেশ পেরিয়ে যাওয়া এবং সোভি...