Posts

Showing posts from August, 2020

গুরুচাঁদ চরিত পর্ব :- 72 তারক–ভাগবত

Image
শ্রীহরিচাঁদের কৃপা যাঁর পরে রয়। অসাধ্য তাঁহার কিছু নাহিক ধরায়।। শ্রেষ্ঠ কবি বলে হ’ল তারকের নাম। দেশে দেশে সবে তাঁরে ডাকে অবিরাম।। বাহ্মণ পন্ডিত কিবা রাজার সভায়। বহু শাস্ত্র-বেত্তা বলি তাঁর পরিচয়।। এবে কহি সর্ব্ব জনে অপূর্ব্ব ঘটনা। করিল অপূর্ব্ব লীলা তারক রসনা।। নড়াইল রাজবাড়ী কবির আসরে। ব্রাহ্মণ পন্ডিত বসে সভা শোভা করে।। বিপক্ষ দলের যিনি ছিল সরকার। কোন গুণে তারকেরে হতে নারে পার।। ব্রাহ্মণ পন্ডিত তাহে হল কুতুহলী। তারকে পরীক্ষা করে ব্রাহ্মণ মন্ডলী।। ভাবগতে আছে লেখা শ্রীদাম পিলাপ। কৃষ্ণ হারা সে শ্রীদাম কহিছে প্রলাপ।। কহিতে “কানাই” তার কন্ঠ বেঁধে গেল। কা, কা, কহিয়া শ্রীদাম কানাই কহিল।। কি হেতু কহিল হেন রাখাল শ্রীদাম? তারকে জিজ্ঞাসা করে যত গুণধাম।। মোরা যাহা ব্যাখ্যা করি আগে শুন তাই। প্রকৃত সিদ্ধান্ত যেন তাতে হয় নাই।। মোরা বলি “তোৎলা” ছিল শ্রীদাম রাখাল। এক সঙ্গে দিতে নারে কোন শব্দে তাল।। এই ব্যাখ্যা করি বটে শান্তি নাহি পাই। প্রকৃত সিদ্ধান্ত কিছু শুনিবারে চাই।। সভাজনে সবে তা...

গুরুচাঁদ চরিত পর্ব :- 71 হরিভক্তে বাসে ভাল সর্ব্ব দেবতায়

Image
ধন্য শ্রীতারকচন্দ্র সাধু শিরোমণি। যাঁর শিরে হরিচাঁদ প্রেম-রস-খানি।। অপূর্ব্ব তাঁহার কীর্ত্তি শুন সর্ব্ব জন। কালীমাতা করে কৃপা স্নেহের কারণ।। লহ্মীপাশা কালীকাতা সবে জানে কথা। বহু পুরাতন তাহে ‘জাগ্রত দেবতা।।” নবগঙ্গা নদীতীরে প্রকান্ড মন্দির। বরাভভ মুর্ত্তি সেখা দাঁড়াইয়া স্থির।। মন্দিরের গাত্রে লেখা যাহা পরিচয়। জনশুতি তাহা ভিন্ন অন্য কথা কয়।। পরিচয়-পত্রে শব্দ খেলা “অনুমান।।” সেই জন্য জনশ্রুতি মানিব প্রধান। রামদাস সাধু যিনি মৈথিলিী ব্রাহ্মণ। শ্রীহরির পূর্ব্ব পুরুষ সেই মহাজন।। লহ্মীপাশা বাস করে সেই মহাশয়। তাঁহার সমাধি পরে এ মন্দির হয়।। “হরিলীলামৃত” গ্রন্থে আছে বিবরণ। স্বহস্তে তারকচন্দ্র করেছে লিখন।। জনশ্রুতি ইতিহাস দোঁহে মিলি কয়। এ সিদ্ধান্ত সত্য তাই লিখিনু হেথায়।। মন্দিরে গাত্রে লেখা “কামদেব” নাম। ভাবে বুঝি ইনি “রামদাস গুণধাম।। বহু কাল পরে যবে লিখেছে লিখন। “রাম” সাজে “কাম” “দাস” “দেবে” নিমগন।।   এগার পঁচিশ অঙ্ক লেখে অনুমান। সেই কালে রামদাস ছিল অধিষ্ঠান।...

গুরুচাঁদ চরিত পর্ব :- 70 শ্রীহরি–চূড়া’ গোস্বামী তারকচন্দ্র

Image
ধন্য কবি শ্রীতারক কহে সর্ব্বজনে। দেশে দেশে সবে সবে গানের কারণে।। একবার ডাক হ’ল ঢাকার জিলায়। মনে মনে তারকের হ’ল কিছু ভয়।। অভয় চরণ-ধারী প্রভু হরিচন্দ্র। উপনীত প্রদপ্রান্তে সে তারকচন্দ্র।। মনে মনে বলে কথা মুখে নাহি ফুটে। প্রভু কয় “তারকের বুন্ধি নাহি মোটে।। ঢাতা’ত বাড়ীর কাছে যাকনা পাবনায়। প্রেমে পুলকিত তনু কহিল তারক। “অন্তর্য্যামী দয়াময় ভূভার-হারক। মনে ভয় সর্ব্বদা কিসে কিবা করি? সকলি তোমার দয়া বুঝিনু শ্রীহরি। যেথা যাই দয়াময়, তাতে ভয় নাই। মনে ভয় কর্ম্মদোষে তোমারে হারাই।। শ্রীমুখে যখনে প্রভু করিলে স্বীকার। গিয়াছে সকল দুঃখ ভয় নাই আর।।” এত বলি দন্ডবৎ করিল চরণে। অতঃপর উপনীত শান্তিমাতা স্থানে।। প্রণাম করিয়া বলে “ওগো লীলাময়ি। রাতুল চরণে মাতাঃ নত-শির হই।। ঢাকা যাব গান গাব এ বাসনা মনে। দয়া করে দয়াময়ী দেখিও নয়নে।। মাতৃ-শক্তি বিনা পুত্রে কোথা পাবে বল? তাতে আমি ভক্তিহীন চক্ষে নাহি জল।। দয়াময়ী জননীগো কৃপা নেত্রে চাহ। চলেচি ঢাকার পথে অনুমতি দেহ।।” তারকের বাণী শুনি হাসিয়া জননী। স্নেহ করে বলে তা...

গুরুচাঁদ চরিত পর্ব :- 69 শ্রীশ্রীহরিচাঁদকে দর্শণ ও শক্তিলাভ

Image
“আমারে আড়াল করিয়া দাড়াও হৃদয়-পদ্মদলে” –বরীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর দিন সে তারক গেল সেই দেশে। সাধনা করিছে যেথা মৃত্যুঞ্জয় বসে।। প্রণাম করিল গিয়া গোস্বামীর পায়। হাসি হাসি মৃত্যুঞ্জয় তারে ডেকে কয়।। “তারক হে! তুমি নাহি জান সমাচার। ওড়াকান্দী হরিচাঁদ হরি-অবতার।। মোর যাহা কিছু দেখ সবি তাঁর দয়া। আমাকে ঘিরিয়া আছে তাঁর কৃপা-ছায়া।। জনম সফল যদি করিবারে চাও। সময় থাকিতে তুমি ওড়াকান্দী যাও।। যদি বল আমি তব সঙ্গে যেতে পারি। নয়ন সার্থক হবে যদি দেখ হরি।। কথা শুনি তারকের চিন্তা হয় মনে। “হরি অবতার পুনঃ হ’ল বা কেমনে?” শেষ অবতার হ’ল শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য। পরে নাহি অবতার গোরা রায় ভিন্ন।।” শাস্ত্র গ্রন্থে কোথা নাই প্রমাণ তাঁহার। কিসে গুরু বলে হরিচাঁদ অবতার?” অন্তর জানিয়া তবে কহে মৃত্যুঞ্জয়। “তারক হে! সন্দ করা কভু ঠিক নয়।। শাস্ত্র গ্রন্থে প্রমাণাদি নাহি বল কিসে? সে কথা বলিয়া গেছে শ্রীজীব বিশেষে।। “শ্রীচৈতন্য ভাগবতে সন্ন্যাস অধ্যায়। মাতার নিকটে প্রভু অঙ্গীকারে কয়।। তব গর্ভে জন্ম লব আর দুই বার। এই নহে মাতা মোর শেষ অবতা...

গুরুচাঁদ চরিত পর্ব :- 68 গোস্বামী মৃত্যুঞ্জয়ের কৃপালাভ

Image
নিশি শেষে স্বপ্নাদেশে মহামায় কয়। “শুনহে তারক তুমি মোর পরিচয়।। লহ্মী পাশা শ্রীমন্দিরে আমি অধিষ্ঠান। অহর্নিশি করি আমি তোমার কল্যাণ।। শুনহে তোমার পিতা ছিল কালীভক্ত। বুক চিরে মোর পদে দিল তার রক্ত।। তোমাতে বড়ই প্রীত আছি আমি তাই। তোমার মঙ্গল হোক সদা এই চাই।। সত্য সত্য মৃত্যুঞ্জয় অতি মহাজন। তাঁহার নিকটে কর অবশ্য গমন।। মহাশক্তি ধারী জান সাধু মৃত্যুঞ্জয়। মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে বলিনু নিশ্চয়।।   এত বলি গেল চলি দেবী মহাশয়া। আভাসে তারক যেন দেখিলেন ছায়া।। নিদ্রা ভেঙ্গে সে তারক বসিল উঠিয়া। সূর্য়্য নারায়ণে কথা বলিছে ডাকিয়া।। “শোন সূর্য্য! মনোধার্য্য বলি তব ঠাঁই। আর দেরী নহে মোরা অদ্য চলে যাই।।” ত্রস্তে ব্যস্তে দুইজনে প্রস্তুত হইল। নব গঙ্গা পার হয়ে শ্রীমন্দিরে গেল।। দন্ডবৎ করে সাধু মন্দির প্রাঙ্গণে। ভক্তি ভরে বলে কথা সব মনে মনে।। “ওগো দয়াময়ি মাতা, জগত জননী। তোমার অনন্ত গুণ আমি নাহি জানি।। দয়া করে যদি মোরে বলিয়াছ পথ। পাই যেন সে মহাপুরুষের সাক্ষাত।।” এ ভাবে প্রার্থণা করি চলিল তারক। সূর্য্য নারায়ণ সঙ...

গুরুচাঁদ চরিত পর্ব :- 67 কবি রসরাজ শ্রীশ্রীতারকচন্দ্রের সংক্ষিপ্ত জীবন–কথা ও বিরোধান বিবরণ

Image
“সেই ধন্য নরকুলে লোকে যাঁরে নাহি ভুলে মনের মন্দিরে সদা সেবে’ সর্ব্বজন” ………মাইকেল মধুসুদন দত্ত। বন্দনা মহাকবি শ্রীতারক অজ্ঞান-তিমির নাশক। রসরাজ কবি চুড়ামানি। প্রেমেক সাধক ধন্য যাঁর আগমন জন্য ধন্য হল এ-মর ধরণী।। কন্ঠে যাঁর সরস্বতী সস্তকে ক্ষীরোদপতি রসনাতে বাণী বাগেশ্বরী। হৃদয়-আসনে যাঁর গুরুচাঁদ মহেশ্বর যুগলে প্রেমবারি।। হরিচাঁদ-তত্ত্ব-কথা হরি লীলামৃত গাঁথা প্রেম-রসে করিল রচনা। বঙ্গ দেশে শ্রেষ্ঠ কবি জ্বলন্ত প্রেমের ছবি কৃপা-কণা করি হে যাচনা।। তোমার জীবন-কথা পূর্ণ-প্রেম-পবিত্রতা। কোনভাবে কবির বর্ণনা। শক্তিহীন আমি দীন লক্ষ গুণে দীন হীন ভক্তিহীন আমি অভাজন।। আমার অসাধ্য যাহা কেমনে বর্ণিত তাহা সাধ্য মাত্র আছ এক পথে।     তোমার কুসুম তুলি তব পদে পুষ্পজ্ঞলি দিব আমি আজি কোন মতে।। যাঁর ফুল তাঁর স্নেহ ফুলে থাকে অহরহ সেই শুধু ভরসা আমার। লীলামৃত বৃক্ষ হতে ফুলগুলি নিয়ে হাতে দাঁড়ালাম আমি দুরাচার।। তোমার জন্মের কথা যাহা লিখিয়াছ সেথা তাই পুনঃ লিখিলাম হেথা। তোমার কুসুম তুমি তুলি রও অন্তর্...